আর্টিকেলবাক্বিয়্যাহ মিডিয়া স্ট্রাইক

আর অন্ধকারে অবশ্যই ছায়া দেখা যায় না

আজকে ইনবক্স খুলে একজন ভাইয়ের মেসেজ পড়ছিলাম, সেখানে তিনি নিজের মাঝে নিফাকের আশঙ্কা জানিয়ে তার জন্য দোয়ার করার অনুরোধ করেছেন। আল্লাহ তাকে আর তার ঈমানকে হেফাজত করুন এবং আমাদেরও। উনাকে উত্তর দিতে গিয়ে নিজের অজান্তেই একটা কথা বলে বসলাম, পরে মনে হলো আমার দ্বীনী ভাই-বোনদেরও সেই কথা বলা উচিৎ, হয়তোবা তা থেকে আখিরাতে আমি কোন কল্যাণ অর্জন করবো। বস্তুত উনাকে আমি উত্তর দিতে গিয়ে বলেছিলাম: “আর নিফাকের ভয় মুমিনকে তাড়িয়ে বেড়ায় তার নিজের ছায়ার মত, যদি সেই ভয়কে দেখতে পান তাহলে বুঝবেন আপনি আলোতে আছেন, আর অন্ধকারে অবশ্যই ছায়া দেখা যায় না।”

বস্তুত ঈমানের সূর্যের কিরণের মধ্যে যে হৃদয় থাকে সে হৃদয়ই এই কালো নিফাকের ভয়কে তার পিছে পিছে দৌড়াতে দেখে, যে যেখানে যাই এই ভয়ও তার সাথে যায়। যখন সে কোন ভালো কাজ করে তখন সে কয়েকবার আশে-পাশে তাকিয়ে নেয়, কেউ দেখলো কি না। যত নাওয়াফিল আছে সব কিছুই সে করে একমাত্র আল্লাহর জন্য, সালাত, সিয়াম, সাদাক্বাহ সবই। আর জিহাদ তো সে আরেক দরজা, যুদ্ধের ময়দানে মুয়াহহিদ মুজাহিদদের গল্প শুনলে হৃদয় আঁতকে ওঠে, নিজেকে বিশাল বড় মিসকিন মনে হয়। আজকে আপনাদের একটি সত্য কাহিনী বলি, শাম থেকে একজন বাঙ্গালী ভাই আমাকে এই কাহিনী বলেছিলেন। ঘটনাটা এমন:

বছর দুই এক আগের ঘটনা, উলাইয়াত হিমসে খিলাফাহ’র সৈনিক ভাইদের আর নুসাইরীদের মধ্যে যুদ্ধ তখন তুঙ্গে। উলাইয়াত হিমসের অধিকাংশ এলাকাই পাহাড়ি মরু এলাকা। বিমান হামলা থেকে আড়াল করতে ভাইরা পাহাড়ের মধ্যে গুহায় থাকেন। যুদ্ধের বিরতিতে ভাইরা তাদের গুহায় ফিরে আসেন, সেখানে সেই বাঙ্গালী ভাইও ছিলেন। তখন কনকনে শীতের সন্ধ্যা, আর শামে শীতকালে বৃষ্টি হয়, যা শীতের প্রকোপকে আরও বৃদ্ধি করে দেয়। ভাইরা সবাই ওজু করে মাগরিবের সালাতের জন্য দাড়িয়ে গেলেন। আমাদের সেই বাঙ্গালী ভাইয়ের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন আরেকজন আরব মুহাজির ভাই, যিনি অনেক আগেই হিজরত করেছিলেন, সাহাওয়াতদের বিশ্বাসঘাতকতার পূর্বে। যাই হোক, সালাত শুরু হলো আর ইমাম তিলাওয়াত শুরু করলেন। তখনই সেই আরব ভাই জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করলেন, ঠিক বাচ্চাদের মত। তারপর সালাত ভেঙ্গে দৌড়ে গুহার বাহিরে চলে গেলেন, তখনও বৃষ্টি হচ্ছে। সবাই নিজেদের সালাত সম্পন্ন করলেন, তার বেশ কিছুক্ষণ পর সেই ভাই ভেজা কাকের মত কাপতে কাপতে ফিরে এলেন। তারপর আমাদের ভাই তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করলেন তার কি হয়েছিল। তার জবাব ছিল হৃদয়কে কাপিয়ে দেয়ার মত। তিনি বলেছিলেন (যতটুকু আমার মনে আছে): “আমি আজ ২ বছর ধরে হিজরত করেছি জিহাদ করছি, ঘর-বাড়ি বাবা-মা সবাইকে ছেড়ে এসেছি তারপর আজ পর্যন্ত জানিনা আমার গন্তব্য কোথায়? আমি কি জান্নাতে যাবো না জাহান্নামে?” এই ভয়ে তিনি এতটাই বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন যে তাকে সালাত ভঙ্গ করে একা বৃষ্টির মধ্যে কাকের মত বসে কাঁদতে হয়েছিল।

সুবহানাল্লাহ! একজন মুহাজির মুজাহিদ যিনি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করেই চলেছেন তার অবস্থা যদি এমন হয় তাহলে আমরা যারা এখন সেই রাস্তা থেকে যোজন যোজন দূরে তাদের কি অবস্থা হওয়া উচিৎ? হে আমার ভাই! নিশ্চয়ই আল্লাহর জান্নাত অনেক দামী। নিজের হৃদয়কে বার বার পরীক্ষা করে দেখুন, আর যদি আপনি আপনার আশে পাশে নিফাকের ভয়ের ছায়া দেখতে না পান তাহলে নিশ্চিতভাবে জেনে নিন আপনি অন্ধকারে আছেন। আল্লাহর কাছে আমরা আমাদের নিজেদের ব্যাপারে পানাহ চাই।

Related post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
%d bloggers like this: